Saturday, September 1, 2018

thumbnail

সুখী দাম্পত্য জীবনের সহজ রহস্য?

সুখী দাম্পত্য জীবনের সহজ রহস্য?
১. সম্পর্কের শুরু থেকেই আপনি যা সেটাই প্রকাশ করুন। আপনার ব্যক্তিত্বের জন্যই আপনার সঙ্গী আপনাকে ভালোবাসবে, হাইব্রিড দোষহীন কচ্ছপের খোলশ পরা মানুষকে নয়।
,
২.পরিবারের দায়িত্ব দুজন মিলেই ভাগ করে নিন। বিশেষকরে স্বামী-স্ত্রী দুজনেই যখন চাকরিজীবী,ঘরের সব কাজ স্ত্রীর উপর চাপিয়ে না দিয়ে হাত বাড়িয়ে দিন। এতে পাশপাশি থাকার ফলে দুজনের মধ্যে হৃদ্যতা আরো গাঁঢ় হবে।
,
৩. নিজের বুদ্ধিদীপ্ত রসিকতার চর্চা করুন নিয়মিত। কঠিন মুহূর্তেও আপনার রসিকতা দুজনকেই ক্ষণিকের জন্য হলেও স্বস্থি দিবে।
,
৪.দুজন মানুষ একসাথে থাকলে গেলেও কিছু পছন্দ-অপছন্দের ব্যাপার চলেই আসে। আপনার সঙ্গীর যেই অভ্যাসটি আপনাকে বিরক্ত করছে সেটি আসলেই বিরক্তিকর কিনা নিজেকে প্রশ্ন করুন। এড়িয়ে যাওয়ার মতো না হলে গঠনমূলকভাবে প্রসঙ্গটি তুলুন এবং সমাধানের উপায় বাতলে দিন,জোরাজোরি করবেন না।
,
৫. সারাদিনে একবারের জন্য হলেও দুজন দুজনের সাথে সময় কাটান অন্তত ১০মিনিট। সেটা হতে পারে বিশ্রামের সময়টুকুতে কিংবা ঘুমুতে যাওয়ার আগে।
,
৬.বাস্তববাদী হোন,দোষ-গুণ নিয়েই মানুষ। আপনার সঙ্গীও একজন মানুষ,সাথে আপনিও। দোষ-ত্রুটি বিবেচনায় রাখুন,ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখুন। নিজের দোষের জন্য অপরজনকে দায়ী না করে নিজেই দায়িত্ব নিতে শিখুন।
,
৭.দাম্পত্য জীবনের ৩টি অতি জরুরি শব্দ- ক্ষমা,ক্ষমা ও ক্ষমা।
৮.নিজের ভুল থেকে শিখুন। যখনই আপনি বলবেন,’আমি দুঃখিত’ এর মানে ‘আমি এই ভুল আর করবোনা’ হওয়াই উচিত। দুঃখিত বলে পুনরায় একই ভুল করলে আপনার প্রতি আপনার সঙ্গীর শ্রদ্ধায় কিছুটা ভাটা পড়তে পারে।
৯.প্রতিদিন একে-অপরের প্রশংসা করুন। একদম ছোট ছোট জিনিসের জন্য,হতে পারে টেবিল পরিষ্কার করার জন্য, কিনে আনা টিস্যু প্যাকেটের জন্য,আপনার কাপড় গুছিয়ে রাখার জন্য ধন্যবাদ দিতেই পারেন। ছোট একটি ধন্যবাদ কিংবা এক মুহূর্তের প্রশংসা আপনার সঙ্গীর মন ভালো করে দিতে পারে নিমিষেই।আর ভালোবাসার মানুষের কাছ থেকে প্রশংসা পেতে কার না ভালো লাগে।
১০.একজন ভালো শ্রোতা হওয়াও বড় গুণ।চুপ থাকুন এবং শুনুন। মুখ বন্ধ-কান খোলা রেখেও আপনি আপনার সঙ্গীর ভাবনা সম্পর্কে জানতে পারবেন । আপনার দুটি কান,একটি মুখ-তাই একটি কথা বলার চেয়ে দুটি কথা শুনুন।
১১.দুজন মানুষের সম্পর্কে মান-অভিমান খুব সাধারণ বিষয়। অভিমানের সময়টিতে চুপ করে বসে না থেকে কিংবা কথা কাটাকাটি না করে সুন্দর কিছু একটা করার চেষ্টা করুন। অভিমান আপনাকে কেবল আপনাদের সুন্দর মুহূর্ত থেকে বঞ্চিতই করে। সুতরাং ধীরে সুস্থে আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান করুন।
১২.দিনের ঝগড়া নিয়ে রাতে ঘুমোতে যাবেননা। বাড়ির মুরুব্বিরা বলে থাকেন,’ঝগড়ার মধ্য দিয়ে সূর্যোদয় পার করো না।বরং উপভোগ কর।’তাই ঘুমোনোর আগে সব ঝগড়া শেষ করুন নতুন দিনের নতুন সকালে নতুন প্রত্যয়ে জাগুন,ভালোলাগা ভর করবে দুজনের উপরই।
১৩. দিনক্ষণ না গুণে প্রতিদিন ভালোবাসার চর্চা করুন।আপনার সঙ্গীর ভালো দিকগুলো প্রকাশ করে প্রশংসা করুন। আদেশ,অনুযোগ কিংবা তিরস্কার নয়। ইতিবাচক,গঠনমূলক সমালোচনা করুন,এটা আপনার সঙ্গীকে একজন ভালো মানুষ হতে সাহায্য করবে।
১৪.দুজনের মধ্যে কোনো বিষয় গোপন রাখবেন না। একজন আরেকজনের কাছে স্বচ্ছ থাকুন। যদি আপনি কিছু গোপন রাখেন এবং পরবর্তীতে প্রকাশ পায়,তবে তা নিঃসন্দেহে আপনাদের সম্পর্কে প্রভাব ফেলবে।সম্পর্কে পরিষ্কার ও খোলামেলা মনোভাব থাকলে সন্দেহ ও ঈর্ষা স্থান পায় না। আপনার সততা,খোলামেলা কথাবার্তা আপনার সঙ্গীর বিশ্বাস অটুট রাখতে সহায়ক ভুমিকা পালন করবে।
১৫.বাইরের মানুষের সামনে কখনোই তর্ক করবেন না। এটি আপনার সঙ্গীর জন্য বিব্রতকর। তবে ভালোবাসা প্রকাশে পিছপা হবেন না।
১৬.যে যাই বলুক আপনি আপনার সঙ্গীকে মন দিয়ে বিশ্বাস করুন, শ্রদ্ধা করুন। কোনো কিছু নিজে থেকেই ভেবে বসবেন না, রাগারাগি না করে সরাসরি প্রশ্ন করুন, ব্যাখ্যা চাইতে পারেন।
১৭.বিয়ের মাধ্যমে দুজন মানুষের সাথে সাথে দুটি পরিবারের মধ্যেও গড়ে উঠে নতুন বন্ধন। আমি-তুমি, তুমি-আমি মনোভাব না রেখে বরং দুটি পরিবারকে নিজের মতো করে ভালোবাসুন, এতে আপনার প্রতি আপনার সঙ্গীর শ্রদ্ধা বেড়ে যাবে আরো দুই ধাপ।
১৮. আপনার সঙ্গীকে সাফল্য পেতে উৎসাহিত করুন,সেটা পড়ালেখার ক্ষেত্রে হোক,চাকরি বা ব্যবসার ক্ষেত্রেই হোক না কেনো। এতে আপনি তার স্বপ্ন ও ভবিষ্যতের যত্ন নিচ্ছেন প্রকাশ পাবে এবং আপনাদের ভালোবাসাকে করবে শক্তিশালী।
১৯.প্রতিদিন রোমান্সের মধ্য দিয়ে যাবে এমন মনোভাব না রেখে বরং নিজেকে তৈরি রাখুন টেনশনের মুহূর্তে ভালো থাকার, ধৈর্য ধরুন!

Subscribe by Email

Follow Updates Articles from This Blog via Email

No Comments

About

Powered by Blogger.

Popular Posts